Header Ads

বিভিন্ন মশলার উপকারিতা


বিভিন্ন মশলার উপকারিতা 


ভূমিকা -

বিভিন্ন মশলার উপকারিতা - রান্নার একটা প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে মশলা ।মশলাপাতির জন্যই রান্নার পর খাবার সুস্বাদু ও সুঘ্রাণ যুক্ত হয়ে থাকে ।খাবারকেসুস্বাদুকরতেমশলারভূমিকাঅনস্বীকার্যপ্রাচীনকালথেকেতাইলা খাদ্যেরসঙ্গেঅঙ্গাঅঙ্গিভাবে যুক্তবিভিন্নলার বিভিন্নগুণরঙএরকারনেখাদ্যেস্বাদ ওরংবিভিন্নহয়েথাকে প্রাচীনকালে লা ওষুধ,ম্যাজিক, ঐতিহ্য, সংরক্ষন, ও রান্নার ক্ষেত্রে  ব্যবহার করাহতো বর্তমানে লা সারাপৃথিবীব্যাপীজনপ্রিয় ।লার সুঘ্রাণ এরউৎসহললায় থাকাতেলবাতাসেরসঙ্গেজারিতহয় লায়রয়েছেপ্রচুরপরিমাণেপুষ্টিগুণরয়েছেরোগপ্রতিরোধক্ষমতা, ভিটামিন, খনিজ লবণ ইত্যাদি
বিভিন্ন মশলার উপকারিতা -

লা হচ্ছেউদ্ভিদের বীজ ,ফল,মূল,বাকল অথবা উদ্ভিদেকোননাকোনঅংশ।মশলা কাঁচা অবস্থায় অথবা ভেজে ব্যবহারকরাহয়েথাকেআমাদের চারপাশের উদ্ভিদ থেকে আমরা খাদ্য, ওষুধ, জামাকাপড় ও ঘরবাড়ি তৈরির উপকরণ পাই। গাছেরা খালা । তৈরির সময়ে (সালােকসংশ্লেষ) পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করে, যার সাহায্যে অন্যান্য জীবেরা শ্বাসকার্য চালায়। গাছে। জীবজন্তুর থাকার জায়গা ও খাদ্য হিসেবেও কাজ করে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর কাছে প্রয়ােজনীয় এরকম কয়েকটি গান হল বাঁশ, কচুরিপানা, শাল ও সুন্দরী। |




বাঁশ

বাঁশ একপ্রকার বহুবর্ষজীবী, নিরেট পর্ব ও ফাঁপা পর্বমধ্যযুক্ত চিরসবুজ উদ্ভিদ। বাঁশগাছে 65 বা 120 বছর অন্তর ফুল ফো। জায়েন্ট পান্ডা, রেড পান্ডা, লেমুর, গরিলা, শিম্পাজী ও হাতি-রা বাঁশকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে। বাঁশের কচি কাণ্ড থেকে আলাদা পানীয়, স্যুপ ও রান্না করার পাত্র তৈরি করা হয়। এ ছাড়া বাশির নামক ওষুধ, কাগজ তৈরি, ঝুড়ি, ছাতার বাট, বাঁশি প্র| প্রস্তুতিতে কচি কাণ্ড ব্যবহৃত হয়। বাঁশ থেকে খেলনা তৈরি করা হয়। বাঁশের তন্তুকে জামাকাপড় তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। | কচুরিপানা একপ্রকার ভাসমান বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। উদ্ভিদটির সংখ্যাবৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি হয়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে গাছটি এদেশে আনা হয়। কচুরিপানা জল থেকে ভারী ধাতু (সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, কোবাল্ট), সায়ানাইড ও আসেনি। অপসারিত করতে পারে। বায়ােগ্যাস তৈরিতে, এমব্রয়ডারির কাজে ও পশুখাদ্য হিসেবে কচুরিপানা ব্যবহার করা হয়।
শাল একপ্রকার বহুবর্ষজীবী, কাষ্ঠল, দ্বিবীজপত্রী বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। শাল গাছের জঙ্গলে বাঘ, হাতি, চিতাবাঘ, ভালুকায়। বুনাে খরগােশ, বুনােশুয়াের দেখা যায়। শাল গাছ থেকে কাঠ, পাতা, আঠা, রজন ও ট্যানিন পাওয়া যায়।

সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়। এই গাছে শ্বাসমূল ও ঠেসমূল দেখা যায়। এই গাছের কাঠ আসবাবা | খুঁটি তৈরিতে, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের ছালে ট্যানিন থাকে, যা চামড়া ও রং শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

ওষধি গাছ বা ভেষজ উদ্ভিদ


খাবারে সুন্দর গন্ধ ও স্বাদ আনতে আমরা নানা রকম মশলা ব্যবহার করি। গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে আমরা মা পাই। যেমন—গাছের ছাল থেকে দারুচিনি, ফল থেকে এলাচ, লংকা, গােলমরিচ, ফুল থেকে জাফরান, জৈত্রী, | থেকে লবঙ্গ ইত্যাদি। খাবারের স্বাদ আনতে, সংরক্ষকরূপে, হজম করতে ও জীবাণুমুক্ত রাখতে মশলা ব্যবহার করা ৷ গােলমরিচ থেকে পিপেরাইন, হলুদ থেকে কারকিউমিন জাতীয় যৌগ পাওয়া যায়। এলাচ, দারুচিনি, গােলমরিচ, জৈা জায়ফল একসঙ্গে মিশিয়ে গরমমশলা তৈরি করা হয়। আদা ও রসুনও মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। | যে সকল গাছ থেকে আমরা নানা রােগ প্রতিরােধক ওষুধ পাই, তাদের ওষধি গাছ বা ভেষজ উদ্ভিদ বলে। এই কয়েকটি গাছ হল—নিম, বেল, আমলকী, নয়নতারা, পুদিনা ও ঘৃতকুমারী। চর্মরােগ সারাতে, বহুমূত্র রােগে, কৃমি করতে, কীটনাশক ওষুধ তৈরিতে, সাবান, শ্যাম্পু, দাঁতের মাজন তৈরিতে নিম ব্যবহার করা হয়।

বেলের মিউসিলাে ।

পেকটিন কোষ্ঠকাঠিন্যের অব্যর্থ ওষুধ। আমলকী ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-C থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গােলাম রক্তক্ষরণ ও আমাশয় সারাতে আমলকী ফল কার্যকরী। নয়নতারা একপ্রকার একবর্ষজীবী বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদ। এই না। | থেকে প্রাপ্ত উপক্ষার ভিনক্রিসটিন ও ভিনক্লাসটিন ক্যানসার রােগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। পুদিনা বহুবর্ষজীবী বীরুৎজা উদ্ভিদ। জীবাণুনাশক হিসেবে, মূত্রের পরিমাণ বাড়াতে, বমিভাব দূর করতে, কাশি, অরুচি ও পাকস্থলীর প্রদাহে আয়। খুবই উপকারী। ঘৃতকুমারী বহুবর্ষজীবী বীরুজাতীয় উদ্ভিদ। চামড়াকে আর্দ্র করতে, তেজস্ক্রিয় বিকিরণজনিত চামড়ার দক্ষ। | অ্যাসিডের আধিক্যে, অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমাতে ঘৃতকুমারীর নির্যাস ব্যবহার হয়।

এবার দেখা যাক পৃথিবীব্যাপীউৎপাদিতব্যবহৃতবিচিত্রধরনেরমসলারভূমিকা-


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ ধরনের মসলার চাষ হয় ।
ভারতে প্রায় ৫০ ধরনের মসলার চাষ হয় । 

  • হলুদ (Turmeric)হলুদে কারকিউমিন (Curcumin)নামে একপ্রকার যৌগ থাকে যা ত্বকের বর্ণ ঠিক রাখতে,চুলকানিতে ,এলার্জি প্রতিরোধে ,লিভার বেড়ে গেলে ,হাঁপানি, আমবাত, ডায়াবেটিসে,দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে ,কাঁচা হলুদ অ্যানিমিয়া কমাতে ,হেপাটাইটিস ,ক্যানসার পেটের গোলযোগ এ ,ফাইলেরিয়া ,কলেরা ইত্যাদি কমাতে ব্যবহৃত হয়। অ্যালজাইমার রোগ এ কারকিউমিন (Curcumin)  ব্যবহৃত হয় হলুদকে অলৌকিক মশলা তথা ভেষজ বলা হয় ।এছাড়া রান্নায় স্বাদ ও রং অনতে আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকি । 

  • হলুদ (Turmeric),spice,
    হলুদ (Turmeric)

  • পেঁয়াজ(Onion)- পেঁয়াজের ঝাঁজ এর জন্য দায়ী হল সালফার প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস তন্তু ,পটাসিয়াম ভিটামিন বি্‌,ভিটামিন সি , ইহাতে চর্বি ,সোডিয়াম ও কোলেস্টেরল কম থাকে আলিয়াম গোত্রের ।ক্যানসার, রিয়া সিফিলিস প্রতিরোধক , হাঁপানি রোধ করবে,হরমোন তৈরি করতে টক্সিন দূর করবে

  • বিভিন্ন মশলার উপকারিতা

  • আদা(Ginger)- আদা জামাইকা দ্বীপে প্রথম ব্যবহৃত হয়,স্পনীয়রাই এর বিস্তার ঘটায় ।আদা হলুদ  হলো এক প্রকার গ্রন্থি কান্ড দার বিশেষ ঝাঁজালোস্বাদের জন্য জিঞ্জিরআলএন যৌগ থাকে যা  অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । আদা হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে, গলা পরিষ্কার করবে, মুখের গন্ধ দূর করবে ।

  • রসুন (Garlic) - রসুনে থাকে অ্যালিসিন যৌগ । রসুনে থাকে ভিটামিন এ ,ভিটামিন সি রসুনের অ্যান্টিসেপটিক ক্ষমতা আছে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে রসুন ব্যবহৃত হয়

মশলা-আদা,পেঁয়াজ,রসুন,লঙ্কা,spice,ginger,onion,garlic,chilly
মশলা-আদা,পেঁয়াজ,রসুন,লঙ্কা


        • লবঙ্গ (Cloves)- লবঙ্গে থাকে ব্যাকটেরিয়ানাশক ইউজিনাল যৌগ ।লবঙ্গ  হলো এক প্রকারের ফুলসহ কুড়ি । লবঙ্গ  দাঁতের যন্ত্রণা কমাতে ব্যবহৃত হয়

        • এলাচ (Cardamon)- এলাচ  রান্না ছাড়া পাকস্থলী সমস্যায় ,বমি ভাব দূর করতে, দাঁতের মাড়ি সবল রাখতে , মুখের গন্ধ দূর করতে ব্যবহার করা হয়।


        • মরিচ (Chilly)-



        • মরিচ এটি জিহ্ব ও গলায় ঝাল লাগে মরিচ বা লঙ্কা হলো এক প্রকারের ফল যা মসলা কোন রান্নায় ব্যবহৃত হয়,ইহা ক্যাপসিকাম (Capsicum) গনের সোলানেসি (Solaneceae) পরিবারের উদ্ভিদ, ক্যাপসাইকিম নামক যৌগ থাকে যা ঝাল বাড়ায়  এবং ভিটামিন সি ,ক্যালসিয়াম ,লোহা ,পটাসিয়াম ইত্যাদি থাকে ।

        • গোলমরিচ(Black pepper)- গোলমরিচ জিহ্বেতে ঝাল লাগে ধ্য যুগে গোলমরিচসবচেয়ে দামি ছিল ।গোলমরিচের তীক্ষ্ণ স্বাদের জন্য দায়ী হল পিপেরাইন যৌগ গোলমরিচের কাঁচা ফলের রং সবুজ

        • শাহা মরিচ গলায়  ঝাল লাগে

        • মৌরি(Anise) -মৌরি চর্বি দূর করতে, নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে,হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ,চোখের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে,সাইনাসের সমস্যা দূর করে,মৌরি হাম ,ক্যানসার সহ অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।




          মৌরি(Anise)
          মৌরি(Anise)





        • দারচিনি (Cinnamon) দারচিনিতে উপস্থিত সিনমালডিহাইড দেহে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখেপ্রাচীনকালে মধ্যযুগের দেশগুলিতে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য দারচিনি ব্যবহৃত হতো  ।দারচিনি থেকে প্রাপ্ত উদ্বায়ী তেল বাতের ব্যাথার উপশম ঘটায়

        • হিং (Asafoetida)- হিং হলো উদ্ভিদে ক্ষরিত পদার্থ বা আঠা যা রান্না সুস্বাদু ও মশালদার করতে ব্যবহৃত হয়। প্রাচীনকালে মশলা  খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হতো


        • বিভিন্ন মশলার উপকারিতা



        • কালোজিরা (Black cumin)- কালোজিরা  রক্ত শোধন করবে ,এলার্জি রোধ করবে ঠান্ডা লাগা সর্দি ,কাশির উপশমে সাহায্য করে

        • ধনে (Coriander powder)- ধনে পেট ব্যথার উপশমে সাহায্য করে

        • জোয়ান (Carom)-জোয়ান হজমে ,পেটে জমা বায়ু কমাতে, ‌পেট ব্যাথা তে ব্যবহৃত হয়

        • মেথি(Fenugreek)- মেথি হাত পায়ের ও বিভিন্ন গাঁটের ব্যাথাতে খুবই উপকারী ,কোলেস্টেরল কমাতে,কৃমিও অন্যান্ন রোগ দূর করতে,মেয়েদের পিরিয়ড ব্যাথায় কাঁচা মেথি চিবিয়ে খেলে খুব উপকার হয় এছাড়া রূপচর্চায়,চুলের যত্নে,কোলন ক্যানসারে,ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ।



          গোলমরিচ,ধনে,লবঙ্গ,মরিচ,হলুদ
          গোলমরিচ,ধনে,লবঙ্গ,মরিচ,হলুদ



        • চারমগজ (Four seeds)- চারমগজ হল প্রধানত কুমড়ো,শসা,তরমুজ ও খরমুজ বীজের সংমিশ্রন ইহা রান্নায় গ্রেভি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।বাঁটা চারমগজ দেখতে সাদা পোস্ত বাঁটার মত ।

        • তেজপাতা ( Bay leaf)- তেজপাতারান্নায় স্বাদ আনতে ও গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে

        • জায়ফল ( Nutmeg) –জায়ফল হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । জাইফল একপ্রকার অর্ন্তবীজ ।ব্রণ দূর করতে,ডায়াবেটিস রোগে,যৌন রোগে, প্যারালাইজড  রোগে, যকৃৎ  রোগে, বাত রোগে ব্যবহৃত হয় ।

        • পুদিনা পাতার(Mint leaf)- রান্না ছাড়াও পুদিনা পাতার রস জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়

        • আমলকি (Amla) -কাঁচা আমলকি (Amla) তে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি । ইহা প্রস্রাবে জ্বালা কমাবে , চুল পড়া রোধ করবে , সর্দি কাশির উপশমে সাহায্য করে ।


        • বিভিন্ন মশলার উপকারিতা



        • ত্রিফলা(Trifala)- ত্রিফলা তে থাকে হরিতকী,আমলকি বহেরা ত্রিফলা তে প্রচুর পরিমাণে থাকে ভিটামিন সি

        • ঘৃতকুমারী (Aloe vera)- ঘৃতকুমারী নির্যাসে অ্যান্টিপাইরেটিথাকায় তা জ্বরের সময় তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করেএছাড়া রূপচর্চায়,চুলের যত্নে,ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহার , ঘৃতকুমারীর সরবত খেলে পেট পরিষ্কার হয় , ঠাণ্ডা থাকে ।

        • রাধুঁনী(Celery seed)রাধুঁনী হল জোয়ানের মত দেখতে ,সামান্য মোটা ইহা রান্নায় ফোড়ং এর কাজে ব্যবহার করা হয় ।



    spice market
    মশলার দোকান

     
     

    তথ্য সূত্র  
        1. https://en.m.wikipedia.org ,

        2. মশলা রান্নাবান্না -বিজ্ঞান ব্লগ,

        3. গৃহ শিক্ষক প্রাণবিজ্ঞান –হাজরা,

        4. pomy sandy / subarn's corner( cooking),

        5. medicalbd.info

        6. ছবি- pixabay  .com

1 comment:

  1. […] ALSO READ : বিভিন্ন মশলার উপকারিতা […]

    ReplyDelete

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.