Header Ads

Raksha Bandhan 2019 (রাখী বন্ধন 2019)


Raksha Bandhan  (রাখী বন্ধন )


Raksha Bandhan  :(রাখী বন্ধন ):-
উৎসবের শ্রেণী-বৈচিত্র্য ও উৎসব দুই প্রকার ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ধর্মাবলম্বীরা মিলিত হয়ে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় পদ্ধতিতে দেবতা বা ঈশ্বরের পূজার্চনা করে। দুর্গোৎসব,রাখী পূর্ণিমাতে, ঈদ, মহরম, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা, গুরু নানকের জন্মােৎসব ভারতের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতাদিবস, রবীন্দ্র জন্মােৎসব, গান্ধীজয়ন্তী, নেতাজীর জন্মদিন প্রভৃতি সামাজিক উৎসবের অন্তর্গত। অধুনা কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবের রূপ ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে হিন্দুর ধর্মোৎসব দুর্গাপূজা আজ সম্প্রদায়-নির্বিশেষে সকলের আনন্দোৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনি খ্রীস্টানদের বড়দিন আজ অখ্রীস্টানদেরও মধ্যে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। মহরমের শােকাপ্লুত শােভাযাত্রা Raksha Bandhan (রাখী বন্ধন ) ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের চোখ অশ্রুসজল করে তােলে ধর্মীয় সংকীর্ণতা উর্ধ্বে এই যে উদার মানবতার ক্ষেত্রে একাত্মবােধ তা সমাজদেহ ও সামাজিক মনকে পুষ্ট ও সমৃদ্ধ করে।  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের তাৎপর্য ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলির ভূমিকা আরো ব্যাপক।রাখী পূর্ণিমাতে  ধর্মীয় বাধানিষেধ নেই বলে সকল সম্প্রদায়ের নরনারী অসংকোচে অংশগ্রহণ করতে পারে। গান্ধী, নেতাজী ও রবীন্দ্রনাথের জন্মােৎসব আমাদের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। সামাজিক উৎসব উপলক্ষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিত হয়ে সঙ্গীতে, নৃত্যে, আলােচনায়, স্মরণে-মননে সংশ্লিষ্ট মনীষী মহাপুরুষদের জীবন ও আদর্শ মূর্ত করে তােলে। জ্ঞানীগুণীদের ভাষণে-বক্তৃতায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। তাদের মানসিক ঐশ্বর্য সমৃদ্ধ হয়।





রক্ষণবন্ধন সাধারণত শ্রাবণের পূর্ণিমার দিন দিবসটি পালিত হয়। রাখি ছাড়াও আরও কিছু উত্সব শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমার দিন উদযাপিত হয়, কিছু লোক এই দিনে তাদের অগ্নি পরিবর্তন করে, তাই এই দিনটিতেও ত্রিবালা পূর্ণিমা। কথিত আছে যে এই দিনে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে কিছু লোক রাধা ও কৃষ্ণের মূর্তি রাখার জন্য পূজা অর্চনা করে এবং এই দিনটিকে উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানে  ঝুলন পূর্ণিমা বলা হয়, ও পালিত হয়। কিছু কিছু জায়গায় এই দিনে গমের বীজ বপন করেন তাই একে কাজরী পূর্ণিমা ও বলা হয়। কেরালা এবং মহারাষ্ট্রে এই দিনটিকে নারলি পূর্ণিমা বলা হয় এবং তারা এই দিনটিতে বিভিন্ন ধরণের উদযাপন করে যেমন  সমুদ্র দেবতাকে পূজা করে। Raksha Bandhan(রাখী বন্ধন )ভারতে বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন উৎসব উদযাপিত হলেও তাদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বিশিষ্ট উত্সব রক্ষবন্ধন। রক্ষাবন্ধনের দিনে, বোনেরা তাদের ভাইদের কাছে রাখি বাঁধেন। রাখী নামেও পরিচিত এই রক্ষা বন্ধন প্রতি বছর শ্রাবন মাসের পূর্ণিমার দিন পালন করা হয়। বোনেরা তাদের ভাইদের হাতের কব্জিতে সুন্দর সুন্দর পবিত্র সূতা বেঁধে দেয় যা ‘নিরাপত্তা ও রক্ষা বন্ধন’ চিহ্ন হিসেবে প্রকাশিত। তারা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনা করে এবং ভাইয়েরা বোনদের রক্ষা করা প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। মেয়েরা কখনও কখনও প্রকাশ্যে কোনও ভাই কে যদিও নিজের সম্পর্কের না হলেও রাখি বাঁধেন যেমন পথচলতি কেউ ,নেতা , সেনাবাহিনীর ,পুলিশ ,বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা।আজকাল যে কোন জায়গায় বলতে গেলে যে কোন প্রতিষ্ঠানে  রাখিও পালিত হয়। অমরনাথের তীর্থযাত্রায়ও আজকাল, প্রকৃতির সুরক্ষার জন্য গাছগুলিতে রাখি বাঁধার প্রথা শুরু হয়েছে।  পূর্ণিমা শুরু হয়, এটি রক্ষাবন্ধনে সমাপ্ত হয়, বলা হয় যে এই দিনে অমরনাথ মাসে শিবলিঙ্গও তার পূর্বসূরি হয়, প্রতি বছর রাখি উত্সবের দিন অমরনাথের গুহায় একটি মেলার আয়োজন করা হয়। আপনার বিশ্বাস অনুসারে এটি বিভিন্ন উপায়ে উদযাপিত হয়।
  


রাখি বন্ধন ভারতীয়দের মধ্যে একটি  বিশেষ উৎসব। এর তিন রকম বিষয় আছে।  সেগুলি হল রামাযানে রাম সমস্ত বানর সেনাদের ফুল দিয়ে রাখি বেঁধে ছিলেন ও রাখি পূর্ণিমা পালিত হয়েছিল। লক্ষ্মী বলিকে ভাই হিসেবে মেনে রাখি পরিয়েছিল যাতে সে উপহার স্বরূপ বিষ্ণুকে স্বর্গে তার কাছে ফিরে যেতে বলে।সাম্প্রদায়িকতা মেটাতে রবীন্দ্রনাথ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাখি বন্ধন উৎসব প্রচলন করেন। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  এর নিয়মই পালন করা হয়।এই নিয়মটি যদিও একটি একাধিপত্যের বার্তা বহন করে। এই সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে ,এখন অবশ্য জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন ধরনের রাখি উৎসব পালন করা হয় ,সেটা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রক্ষা বন্ধন উৎসবে ভাইবোনের মধ্যকার স্বর্গীয় সম্পর্ক উদযাপন করা হয়।  ঐ দিন পরিবারের সকলে একত্রে মিলিত হয়, বিশেষ খাবার দাবারের ও উপহারের ব্যবস্থা করা হয় এবং সকলে মিলে আনন্দ ফুর্তিতে মেতে ওঠে। এই বিশেষ দিনে পরিবেশেযমতত্ত্ব বেশি থাকে, এতে ভাইয়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু রাখি বন্ধনের ফলে তা দূর হয়ে যায়।



রাখি বন্ধনের নেপথ্যের ইতিহাস: 


সুভদ্রা ও শ্রীকৃষ্ণ ঃ

রক্ষবন্ধন ভিত্তি হিসাবে উদযাপিত হয় তার আর একটি ইতিহাস হল- রাখির উত্সব উদযাপন করেন সুভদ্রা, কৃষ্ণের ছোট বোন,। কৃষ্ণ সুভদ্রাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তবে আপন বোন না হয়েও দ্রৌপদী ছিলেন কৃষ্ণের অতীব স্নেহভাজন। একদিন সুভদ্রা কিছুটা অভিমান ভরে কৃষ্ণকে প্রশ্ন করলেন কেন তিনি দ্রপৌদীকে কে এত স্নেহ করেন। উত্তরে কৃষ্ণ বললেন যথা সময়ে এর কারন তুমি বুঝতে পারবে।এর কিছুদিন পর শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে রক্ত পড়ছিলতা দেখে সুভদ্রা রক্ত বন্ধের জন্য কাপড় খুঁজছিলেনকিন্তু মন মত পাতলা সাধারন কাপড় পাচ্ছিলেন না। এদিকে শ্রীকৃষ্ণের হাত থেকে বেশী রক্ত পড়ছিল ,
তা দেখে বোন সুভদ্রা কী করবেন বুঝে উঠতে পাড়ছিলেন না।এমন সময় সেখানে দ্রপৌদী হঠাৎতেই এসে উপস্থিত হয়। তিনি লক্ষ্য করেন শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে রক্ত পড়ছিলতা দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের পড়িহিত শাড়ি ছিঁড়ে হাত বেঁধে দিলেন।সুভদ্রা অবাক হয়ে দেখলেন ও লজ্জিত হলেন।কৃষ্ণ সুভদ্রাকে বললেন এখন তুমি বুঝতে পারলে কেন আমি দ্রপৌদীকে কে এত স্নেহ করি।আর এই ঘটনার পর থেকে রক্ষবন্ধন উদযাপিত হয়েছিল।

রাজা বালি ও লক্ষ্মী দেবী ঃ

প্রথম রক্ষবন্ধন পৃথ্বী লোকে নয় অন্য লোক মধ্যে পালিত হয়েছিল। রক্ষাবন্ধনে প্রতিটি যুগ ও যুগের বিভিন্ন বিশ্বাস ছিল,  রক্ষণবন্ধনের সাথে সম্পর্কিত গল্পটি হল - রাজা রথবন্ধন ১১০ টি যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন যখন শ্বররা ভয় পেয়েছিলেন এবং তাদের বলতে শুরু করেছিলেন যে এই রাজাও  তাদের অধিকার নেবেন, তাই ভগবান বিষ্ণু সমস্ত দেব গনকে রক্ষা করেন। ভগবান বিষ্ণু তখন বামন অবতার নিয়েছিলেন এবং নিজেকে ব্রাহ্মণ হিসাবে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন, তখন তিনি রাজা বালীর কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলেন, গুরুর অস্বীকৃতি সত্ত্বেও রাজা বালি  সেই ব্রাহ্মণ-সদৃশ ভগবান বিষ্ণুর কাছে জমি দান করেছিলেন, এই সময়ে, ভগবান বিষ্ণু এক অবস্থান থেকে পৃথিবীতে এবং অন্য দিক থেকে পৃথিবীর মানুষের কাছে বামন রূপটি মাপলেন, এখন শ্বরের

 


কাছে
 রাজা বালি বিচলিত হয়েছিলেন। এখন কী করবেন বুঝতে পারলেন না, তখন তিনি এগিয়ে গিয়ে বামন দেবের পায়ে মাথা রেখে বললেন, তোমার তৃতীয় পা এখানে রাখ, ভগবান বিষ্ণু রাজা বালিকে জিজ্ঞাসা করলেন ও পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিলেন ফলে রাজা ভয়ে ভয়ে  থাকতে বাধ্য হলেন। কথিত আছে যে বালি তাঁর ভক্তির জোরে রাতারাতি তাঁর সামনে থাকার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন এবং ভগবান বিষ্ণুকে তাঁর দ্বাররক্ষক বানিয়েছিলেন। এ কারণেই লক্ষ্মী  ভগবান বিষ্ণুর আরতিতে আসতে হয়েছিল ও বিচলিত হয়েছিলেন যে ভগবান বিষ্ণু ঘরে ফিরবেন না, ক্রুদ্ধ লক্ষ্মী নিজেই একটি সমাধান করেছিলেন, সেই প্রতিকারটি লক্ষ্মী  রাজা বালির কাছে গিয়ে রাখি বেঁধে তাঁকে ভাই বানিয়ে তাঁর স্বামী ভগবান বিষ্ণুকে উপহার হিসাবে নিয়ে এসেছিলেন, এই দিনটি শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা দিবস ছিল এবং এই দিন থেকে রক্ষবন্ধন উদযাপিত হয়েছিল।





ইতিহাসে রাখী বন্ধন:


বঙ্গভঙ্গ  আন্দোলনে ও রাখি বন্ধন কর্মসূচি:


এ তো গেল পৌরাণিক ব্যাখ্যা কিন্তু ভারতবর্ষের ইতিহাস হল- সাম্প্রদায়িকতা মেটাতে রবীন্দ্রনাথ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাখি বন্ধন উৎসব প্রচলন করেন।

ভারতবর্ষে তৎকালিন ইংরেজ শাষক লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গের  কথা ঘোষণা করে এবং একই বছরেরই ১৬ অক্টোবর(বাংলা ১৩১২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ আশ্বিন) থেকে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার প্রত্যেক  মানুষই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হন।  এই আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। তিনি বলেন, দিনটি বাঙালির ঐক্যের দিন হিসেবে উদযাপিত করা হবে। তারই ফলস্বরূপ তারা একে অপরের হাতে বেঁধে দেন হলুদ সুতো দিনটিকে রাখি বন্ধনের দিন হিসেবে পালন করার ডাক দেন  আসুন, আমরা দিনকেই আমাদের সমস্ত বাঙ্গালীর

 


ঐক্যবন্ধনের
দিন করি। দিনে আমরা পরস্পরের হাতে হরিদ্রাবণের সূতার ঘরে ঘরে অথবা প্রকাশ্যস্থলে সম্মিলিত হইয়া, রাখী-বন্ধন করিয়া, আমাদের অখণ্ড ভ্ৰাতৃভাব সকল বাঙ্গালী মিলিয়া প্রকাশ করি। এই শুভ বন্ধনের স্থায়িত্ব কামনায় দিন আমরা সংযম গ্রহণ করিব। দিন সমস্ত বাঙ্গলা দেশের কোথাও কোন গৃহে রন্ধন হইবে না। আমরা বাঙ্গালীরা সেদিন উষ্ণ দ্রব্য ভােজন  করিব না। বন-ডােজনের পরিণের ন্যায় চিড়া মুড়কী, ফলাদি আহার করিয়া থাকিব। কেবল শিশুর জন্য দুগ্ধ জ্বাল দিতে অন্যত্র অগ্নি জ্বালিব। চুল্লি জ্বালিব না। দিনকেই প্রতি বৎসর বাঙ্গালীর রাখী-বন্ধনের দিন করিয়া স্মরণীয় করিয়া রাখিব। আশা করি, বঙ্গের জমিদারি-সম্প্রদায় ,প্রজাগণকে, গ্রামের প্রধানেরা গ্রামবাসীদিগকে, বিদ্যালয়ের ছাত্রগণ তাহাদের প্রতিবাসীদিগকে এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য বুঝাইয়া দিয়া, যাহাতে বঙ্গের প্রত্যেক গ্রামে জাতীয় ঐক্যবন্ধনােৎসব সুচারুরূপে সম্পাদিত হয়, অবিলম্বে তাহার আয়ােজন করিবেন। নিবেদক, শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।,শ্ৰীভূপেন্দ্রনাথ বসু, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শ্রীরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বিপিনচন্দ্র পাল।



অপরদিকে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদিও এসবেরই অঙ্গ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে দিন এক বিশাল মিছিল গঙ্গার উদ্দেশে  চলে সমাজের বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঐদিন সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখেন মিছিলে অংশ নেন গান লিখলেন রবীন্দ্রনাথ।   ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর সর্বত্র যে রাখীবন্ধন অনুষ্ঠান পালিত হল, সেই অনুষ্ঠানে বাংলার সর্বত্র গীত হল রবীন্দ্রনাথের সংগীত-

"বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু বাংলার ফল,


পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, হে ভগবান।।



বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন বাংলার মাঠ


পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান। 

বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা

সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান।

বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বােন

এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান।" 


সেদিন সারাদিনই কলকাতা তথা কলকাতার বিডন স্কোয়ারে বাংলার নানান জায়গায় রাখি বন্ধন উৎসবের আয়ােজন করা হয়।  সেই সঙ্গে বাংলার ঘরে ঘরে পঠিত হল রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী লিখিতবঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথাঅনশনের মাধ্যমে দিনটিকে শােকদিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন।  এমন সহজ কথায় অনাড়ম্বর ভাষায় এমন মর্মস্পশী করে এত সংক্ষেপে দেশের কথা আর কোথাও বর্ণিত হয়নি। তারপরে যখন চারণ মুকুন্দদাস এসে গান।

ছেড়ে দেও কাচের চুড়ি বঙ্গনারী কভু হাতে আর পরাে না। তােমরা যে গহ-লক্ষ্মী ধর্ম সাক্ষী জগৎ ভরে আছে জানা, কাচের মায়াতে ভুলে, শঙ্খ ফেলে, কলঙ্ক হাতে আর পরাে না।


আলেকজান্ডার ও পুরু ঃ



ভারতেরইতিহাসে আরেকটি ঘটনা হল ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন তিনি  যুদ্ধ করতে করতে এক এক রাজ্য জয় করতে করতে ঝিলম নদীর তীরে এসে হাজির হন উত্তর ভারতের সমস্ত রাজা আলেকজাণ্ডারের বশ্যতা মেনে নেন একমাত্র পুরু বাধা দেন যুদ্ধ অবস্যম্ভাবী দেখে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রােজানা রাজা পুরুকে একটি পবিত্র রাখী পাঠিয়ে তাঁকে অনুরােধ করেন তিনি আলেকজান্ডারের ক্ষতি যেন না করেন রাজা পুরু তিনি রাখীকে সম্মান করতেন তাই যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি নিজে আলেকজান্ডারকে আঘাত করেননি ।ইতিহাসে আরও অনেক কাহিনী শোনা যায় এই রাখী পূর্ণিমা দিন রাখী বন্ধন নিয়ে যেমন -সম্রাট হুমায়ন ও চিতোরের রাণী কর্ণবতী,জয় সন্তোসী মা চলচিত্রে গনেশ ও মা সন্তোসী দেবী ইত্যাদী ।

  উপসংহার :-

Raksha Bandhan  (রাখী বন্ধন ) উৎসবমুখী মানুষের প্রাণ। উৎসব আগেও ছিল এখন তাে রয়েছেই বরং বেশি জাঁকজমক সহকারেই সংঘটিত হচ্ছে। তবে হারিয়েছে পবিত্রতা, আন্তরিকতা। আলাের রােশনাই থাকলেও প্রদীপের পবিত্রতা নেই। কিন্তু রাখী পূর্ণিমাতে যেন আনন্দের উৎসস্থল মাত্র। সম্প্রদায়গত বিভেদ নেই। সম্প্রদায় কখনও ধর্ম নয়। ধর্ম একটাই তা মানবধর্ম। তাই উৎসব হল উৎসে গতি। সেখানে কোনাে সম্প্রদায়ের আলাদা রূপ বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। জীবনকে সুন্দর করা, জীবন বৃদ্ধির পথে চলাই মানবধর্ম। উৎসবের তাৎপর্যও তাই। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব। শ্রেষ্ঠত্ব তার চিন্তায়, কর্মে। উৎসব মানুষের প্রাণ। যে উৎসবে মানুষের হৃদয়। বিকশিত হয় না, সে উৎসবের কোনাে মূল্য নেই। মানব জীবন সমস্যাবহুল। প্রয়ােজন এক আদেশ মেনে চলা। কথায় আছে, এক আদেশে চলে যারা, তাদের নিয়ে সমাজ গড়া। আদর্শকে সামনে রেখে চলাই মানুষের কর্তব্য। সে আদর্শ জীবন্ত আদর্শ। প্রয়ােজন আদর্শমুখী জীবন। কারণ আদর্শহীন যে, বহুগুণ থাকলেও সে মেকি। উৎসব মানুষের জীবনের বাঁচার প্রেরণা। গ্রীষ্মের ভােরের শীতল বাতাসের মতাে। হৃদয় শীতল করে, মন শান্ত করে। জীবনকে প্রেরণাপুষ্ট করে।


Raksha Bandhan  History, SMS, What's app status.(রাখী বন্ধনের মেসেজ )


1. তোমার হাতে রাখী বেঁধে দিতে পারলাম না /ভাই ,আমি জানি আমি তোমার হৃদয়ে চিরকাল আছি ও থাকব। /তোমাকে প্রচুর ভালবাসা ও আশীর্বাদ পাঠাচ্ছি। / শুভ রক্ষবন্ধন শুভেচ্ছা  রইল।


2.রাখীপূর্ণিমার শুভ উপলক্ষ্যে, /আমি সেই সুন্দর মুহূর্তগুলি স্মরণ করি যা আমরা একসাথে কাটিয়েছি, /বোন, তুমি আমার জীবনের প্রতিটি দিনকে অর্থপূর্ণ করে তুলেছো। / শুভ রক্ষবন্ধন


3..কিছু ছোট টুকরো টুকরো মুহুর্ত /যা ভাই এবং বোনকে আবদ্ধ করে / পৃথিবীতে যে কোনও কিছুর চেয়ে শক্তিশালী। /তোমাকে এই মেসেজটি পাঠালাম


4. তোমাকে স্মরণ করিয়ে জানালাম /আমাদের চির ভালবাসা এবং সাহচর্য বন্ধন। /ভাই শুভ রক্ষা বাঁধন!


5..Dear Sister, You Are Strong And Bright /And Can Take Of Yourself, I Know. /But I Have Tell You , I Will Always Be There For You Whenever You Need Me. / Happy Raksha Bandhan


6.On the auspicious occasion of Raksha Bandhan, I want to promise you that no matter what ,


I will always stand by your side!. Sending you all my love on this special day!. / Happy Raksha Bandhan.





4 comments:

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.