Saturday, November 24, 2018

দূষণের কারণ ও ফলাফল (What is causes and effect of Pollution)?

POLLUTION:AIR POLLUTION,WATER POLLUTION,SOIL POLLUTION, NOISE POLLUTION,LIGHT POLLUTION,THERMAL POLLUTION, RADIOACTIVE POLLUTION,EASSY OF POLLUTION, EVS MCQ, ENVIRONMENTAL STUDIES QUESTION...
POLLUTION:AIR POLLUTION,WATER POLLUTION,SOIL POLLUTION, NOISE POLLUTION,LIGHT POLLUTION,THERMAL POLLUTION, SMOGE
Air pollution,smoge,thermal pollution.


POLLUTION:AIR POLLUTION,WATER POLLUTION,SOIL POLLUTION, NOISE POLLUTION,LIGHT POLLUTION,THERMAL POLLUTION, RADIOACTIVE POLLUTION,EASSY OF POLLUTION, EVS MCQ, ENVIRONMENTAL STUDIES QUESTION..



দূষণ (Pollution) -

''জীবনের সার্থকতা পরিবেশ নির্ভর,
নির্মল অঙ্গনে সবকিছু মনোহর'' ।
আমরা যেখানে বাস করি তার পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলকেই বলা হয় পরিবেশ ।পরিবেশে যখন অবাঞ্ছিত বস্তুর উপস্থিতি বৃদ্ধি পায় যা জীবজগতের পক্ষে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে । যন্ত্রযুগের বিষ বাষ্পে  এবং নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার অভিঘাতে,মানব জনসংখ্যার অত্যাধিক বৃদ্ধি এবং নির্বিচার উন্নতি প্রচেষ্টা পৃথিবীকে দূষণ নামক সংকটের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে ,বিষিয়ে উঠছে বায়ু নিভে যেতে বসেছে সভ্যতার আলো  

দূষণের সংঙ্ঘা (Definition of Pollution ) :- 

জীবমন্ডলের ভৌত , রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন  যা জীবজগৎ পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে তাকে দূষণ বলে ।
বাস্তুবিজ্ঞানী ওডামের(Odum) মতে - ''আমাদের পরিবেশের জল স্থল বায়ুর ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অবাঞ্ছিত পরিবর্তন যা মানব জীবনের কৃষ্টির পক্ষে ক্ষতিকারক তাকেই দূষণ বলে ''।

উৎপত্তি (Origin) :- 

আমাদের পারিপার্শ্বিক সজীব আর জড় উপাদান মিলে তৈরি হয় পরিবেশ । মানুষ নিজের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই পরিবেশের বয়ু, জল ,মাটি, সম্পদ অতিমাত্রায় ব্যবহার করে বেঁচে আছে, ফলে মানুষের জীবনযাত্রার গতির উন্নতি ঘটলেও বাসযোগ্য পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বর্তমান মানব সভ্যতা দূষণের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি জনসংখ্যার অতিবৃদ্ধি , বাসস্থানের সীমা বাড়ানো , চাষযোগ্য জমির সম্প্রসারণ , অবৈতনিক পদ্ধতিতে বৃক্ষ ছেদন অরণ্য ধ্বংস ,উন্নয়ন , চোরাশিকারির অতি লোভ ,পুঁজিবাদী মানুষের কর্মপদ্ধতি প্রযুক্তি বিদ্যার অগ্রগতির অপব্যবহার সর্বোপরি সচেতনতা হীন কার্যকলাপ এর কারণেই পৃথিবীতে আজ বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে । পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব বজায় রাখতে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রাকৃতিক সম্পদের সীমিত ব্যবহার ,প্রয়োজনে পুনঃস্থাপন সংরক্ষণ একান্ত দরকার ।

 দূষক পদার্থ (Pollutant):- 

পরিবেশের যে সকল ক্ষতিকারক বস্তুর আধিক্য বা অনুপ্রবেশের ফলে জীবমন্ডলের ভৌত জৈবিক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধিত হয় তাদের দূষক পদার্থ বলে দূষণকারী পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়

প্রাথমিক দূষক পদার্থ (Primary Pollutant) :- 

প্রাথমিক দূষক পদার্থ যে সকল দোষ আব্বা দূষণকারী পদার্থ উৎস থেকে সরাসরি বায়ুতে মিশে বায়ু দূষণ ঘটায় তাদের বলা হয়  প্রাথমিক দূষক পদার্থ যেমন ,নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন অক্সাইড ,সালফার ডাই অক্সাইড ,এই পদার্থ গুলি মনে হয় জ্বালানির দহনে উৎপন্ন হয়।

 গৌণ দূষক পদার্থ (Secondary Pollutant) :-

প্রাথমিক দূষক গুলি বায়ু সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এসে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে যে সকল পদার্থ উৎপন্ন করে তাদের গৌণ দূষক পদার্থ বলে যেমন -ওজন (Ozone),পারঅক্সি এসিটাইল নাইট্রেট(Peroxyacetyl nitrate)ফরমালডিহাইড (Formaldehyde) ইত্যাদি।

 ক্রাইট্রেরিয়া দূষক পদার্থ (Criteria Pollutant)- 

ছয়টি রাসায়নিক পদার্থ আছে যেগুলি প্রবল ভাবে বায়ুকে দূষিত করে যেমন প্রাথমিক দূষক পদার্থ  এবং গৌণ দূষক পদার্থ মাটি সংলগ্ন ওজন পার্থ কে লাইট এরিয়া পল্লুটান্ট বলে কিছু দূষণকারী পদার্থ যেমন দস্তা,লোহা,সিসা,পারদ, হার্ভিসাইটপেস্টিসাইডরাসায়নিক সার ,তরকারির খোসা বাড়ির ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য ,ইলেকট্রনিক দূষক পদার্থ জলআবর্জনা ,গঙ্গাজল ,স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবর্জনা ,কল কারখানার আবর্জনা ,এস পি এম (SPM) পদার্থ , তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive material), বিভিন্ন তরঙ্গ ইতাদি।


Air Pollution,Water Pollution,Car, Smoge,
Air and Water Pollution

এছাড়াও বিয়োজনের উপর ভিত্তি করে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।

বায়োডিগ্রেডেবল (Bio-Degradable)-

একটি জৈববস্তুপুঞ্জ  অবাঙ্ছিত উপাদান যা  ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রাণীর দ্বারা বিকৃত হতে পারে এবং দ্রুত ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়ে পরিবেশে ফিরে যায় । এদের দূষণে যোগ করা যায় না। বায়োডিগ্রেডেবেল বর্জ্য  পদার্থ যা মাইক্রোবগুলি (যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং আরও কিছু), প্রাকৃতিক তাপমাত্রা, ইউভি, অক্সিজেন প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদানের দ্বারা হ্রাস করা যেতে পারে। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য ডাম্পিং ,জীবনের হুমকি বাড়াতে পারে। তাই এড়াতে কিছু মানুষ কম্পোস্টিং করে । মানব জীবনের ব্যবহারযোগ্য খাদ্য পণ্যগুলি যেমন খাবার উপকরণ, রান্নাঘর বর্জ্য, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বর্জ্যবায়োডিগ্রেডেবেল বর্জ্য এবং মূত্র থেকে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। জীববিজ্ঞান বর্জ্য  বায়োডিগ্রেডেবেল করতে পারেন। অর্থা, প্রাকৃতিকভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং রাসায়নিক উপাদানের মতো মাটিতে ফিরে আসে। বায়োডিগ্রেডেবেল বর্জ্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ ল্যান্ডমিল ও পরিবেশে বর্জ্য তৈরি হয় যা দ্রুত ভাঙ্গতে পারে। পরিবেশের উপাদানগুলিকে ফিরিয়ে দিতে পারে । বায়োডিগ্রেডেবেল বর্জ্য অন্যান্য ধরনের বর্জ্য থেকে পৃথক, এর ফলে এটি দ্রুত ভেঙ্গে যায় এবং কিছু ধরণের বর্জ্যকে আবার কম্পোস্টড করা হয় তারপর সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নন-বায়োডিগ্রেডেবল ( Non Bio-Degradable)-

একটি অজৈববস্তুপুঞ্জ বা অবাঙ্ছিত উপাদান  যা প্রাকৃতিক প্রাণীর দ্বারা ভাঙ্গা যায় না এবং দূষণের উৎস হিসাবে কাজ করে। বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্যের বিপরীত, অ-বায়োড্রেগডেবল সহজে পরিচালনা করা যায় না । অ-বায়োড্রেগ্যায়েবল বর্জ্যগুলি প্রাকৃতিক এজেন্টদের দ্বারা বিযুক্ত বা দ্রবীভূত করা যায় না । অ-বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্যগুলি হ্রাস ছাড়া হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে থাকে। তাই তাদের দ্বারা সৃষ্ট দূষণের পরিমান ও বেশী । যেমন প্লাস্টিক যা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যবহৃত উপাদান ,এই প্লাস্টিকের দীর্ঘ দিন ধরে পরিবেশে থাকে ও দূষণ বাড়ায় । তাই বর্তমানে উন্নত মানের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে। করা। এছাড়া কৃষি এবং শিল্প উৎপাদনের  জন্য ব্যবহৃত ক্যান, ধাতু, এবং রাসায়নিক পদার্থ । যারা  বায়ু, জল এবং মাটি দূষণের প্রধান কারণ তথা পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। যেহেতু অ-বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্যগুলি ইকো-বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, তাই তাদের প্রতিস্থাপন করা দরকার।

Non Bio-Degradable Pollutant,Plastic.E-waste.

Non Bio-Degradable Pollutant

কিছু সাধারণ দূষণকারী পদার্থ (Some common Pollutant):–

1. কিছু রাসায়নিক পদার্থ,যেমন সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড , ক্লোরিন , ফ্লুরিন , ডিটারজেন্ট ইত্যাদী ।
2.অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, লোহা ,সিসা , পার ইত্যাদী ভারী ধাতু ।
3.হার্ভিসাইট(Herbicides) পেস্টিসাইড(Pesticides)লার্ভিসাইড(lervicides)রাসায়নিক সার  ইত্যাদী ।
4. বাড়ির অব্যবহার যোগ্য দ্রব্য ,তরকারির খোসা,বাথরুম নিঃসৃত নোংড়া জল ।
5.ইলেকট্রনিক পদার্থ (E-waste) ,স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্যবহারযোগ্য নোংরা জল,প্লাস্টিক(Plastic),সিরিঞ্জ,সূচ,তুলো,রক্ত,প্লাসেন্টা,ঔষধের প্যাকেট,ইত্যাদী।
কলকারখানার নোংরা জল, আবর্জনা ,রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদী ।
 6.এস পি এম (SPM) ,বায়ুতে উপস্থিত দূষিত পদার্থ ।
7. তেজস্ক্রিয় দূষক পদার্থ (Radioactive material)
8.অবাঞ্ছিত শব্দ ।
9. বিভিন্ন তরঙ্গের ভালো আলোক ইত্যাদি ।


বিভিন্ন প্রকার দূষণ (Types of Pollution):-

বায়ু দূষণ (Air Pollution),
জল দূষণ (Water Pollution),
মৃত্তিকা দূষণ (Soil Pollution),
শব্দ দূষণ (Noise Pollution),
তেজস্ক্রিয় দূষণ (Radio active Pollution),
আলোক দূষণ  (Light  Pollution),
থার্মাল দূষণ  (Thermal Pollution),
 দৃশ্য দূষণ সানে  (Visual Pollution)


পরিবেশ দূষণের ফলাফল (Effect of Pollution):-

1. বায়ু দূষণ (Air Pollution) অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) পরিবেশ দূষণের ফলে বাতাসে দূষিত গ্যাসের উপস্থিতির জন্য এসিড বৃষ্টি হয় এই বৃষ্টি নেমে এসে মানব স্বাস্থ্য পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে
2.বায়ু দূষণের  (Air Pollution) ফলে  ফুসফুস রোগ ,শিল্পাঞ্চলে কয়লা খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ব্লাক লাং ডিজিজ (Black lung disease) ,ব্রংকাইটিস , হাঁপানি, এলার্জি এবং ক্রনিক অ্যাবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিট(COPD) হয়। 
3.জল দূষণের  (Water Pollution) ফলে জলাশয় ইউট্রিফিকেশন দেখা যায় ,আলগাল ব্লুম ,সিওটি (COD)  ডি বিওটি (BOD) দেখা যায়।
4.  জল দূষণ (Water Pollution) দূষিত জল পান করলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ হয়,যেমন কলেরাটাইফয়েড ,আমাশয় ইত্যাদি।
5. জল দূষণ (Water Pollution) ভৌম জল স্তরে আর্সেনিক নামক ধাতু মিশ্রিত হয়ে আর্সেনিকোসিস রোগ হয় ও ভৃ-পৃষ্ঠের জলে পারদ দূষণের ফলে মিনামাটা রোগ হয়।
6.  জল দূষণ (Water Pollution) সমুদ্রের জলে জাহাজের তেল বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ভাসতে থাকে  যা পাখিদের ডানায়  লাগলে আর উঠতে পারে না।
7.মৃত্তিকা দূষণের  (Soil Pollution) ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু সংক্রমণ ঘটে যা মানব শরীরে প্রচুরক সৃষ্টি করে
8.শব্দ দূষণের (Nios Pollution) ফলে নয়েজ ইনডিউসিং হেয়ারিং লস (NIHL), একাউষ্টিক স্ট্রমা, মায়োকার্ডিয়াল ইনর্কফাশন ,বিভিন্ন প্রাণীর প্রজননে বাধা সৃষ্টি  করে উচ্চ প্রাবল্যের শব্দ।
9.   বায়ু দূষণ (Air Pollution) যানবাহনের ধোঁয়া ,শিল্পাঞ্চলের ছা ,বাতাসে এস পি এম(SPM) এর মাত্রা বেড়ে গেলে কুয়াশা  ও আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা (Photo chemical smoge) সৃষ্টি হয়।
10.সর্বোপরি গ্রীন হাউজ গ্যাসের (Green house gas) পরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) ঘটে চলেছে ।

Effect of Pollution,Fish
Effect of Pollution

তথ্য সূত্র-
  1. জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ, শুভ্রনীল চক্রবর্তী
  2. ছবি- pixabay.com

No comments:

Post a Comment